নতুন জাতের সুগন্ধি বি৭৫ রোপণের ২০ দিনের মধ্যেই ধানগাছে শীষ এসে ফুল ঝরে পড়ছে। এতে লোকসানে পড়েছেন মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার দুই বর্গাচাষি। তাদের দাবি, এক একর সাত শতক জমিতে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে। তাই বীজ বিক্রেতার কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অভিযোগ দিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলার রাজনগর উপজেলার কামাচাক ইউনিয়নের পশ্চিম পঞ্চানন্দ পুর কোনার বন্দ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সদ্য রোপণকৃত ছয়-সাত ইঞ্চি লম্বা ধানগাছে শীষ এসে ফুল ঝরে পড়ছে। এক একর সাত শতক জমির চিত্র একইরকম
এ সময় কথা হয় বর্গাচাষি নুর বখসের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি একজন দিনমজুর। নিজের জমি নেই তাই মহাজনের দেড় বিঘা জমিতে ছয় মণ ধানের বিনিময়ে চাষ করছি। এতে হালচাষ ও সারসহ ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। আশা ছিল ২৫ মণ ধান উৎপাদন হবে। কিন্তু সব আশাই জলে গেলো। ফলানো ফসল নষ্ট হওয়ায় এখন আমাকে পথে বসতে হবে।’
একই এলাকার আরেক বর্গাচাষি লুকমান মিয়া বলেন, ‘একই জাতের বীজ রোপণ করে আমার দুই বিঘা জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। জলে গেলো হালচাষ, সার ও বীজের খরচ। আমরা দু’জনের এক একর সাত শতক জমির ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। কোনো জাতের ধান রোপণের এখন আর সময় নেই।’
রাজনগর উপজেলার টেংরাবাজারের মেসার্স জনকল্যাণ বীজ ঘরের স্বত্বাধিকারী মো. বাছির মিয়া বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন থেকে নিয়মিত বীজ আনি। নতুন জাতের বি৭৫ বীজ আমার কাছ থেকে অনেকেই নিয়েছেন। কারও কোনো অভিযোগ নেই। বীজ থেকে চারা ঠিকই হয়েছে। রোপণের সময় হয়তো চাষিরা কোন ধরনের তারতম্য ঘটিয়েছে। এজন্য অল্প দিনে শীষ চলে এসছে।’
রাজনগর ইউএনও প্রিয়াংকা পাল জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার কাছে অভিযোগ আসার পর বিষয়টি সমাধানের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। মনে হচ্ছে চাষিরা কারও কাছ থেকে পরামর্শ নেননি।’
তিনি আরও বলেন, অভিযোগের বিষয়টি ইউএনও আমাকে জানিয়েছেন। সমাধানের জন্য দায়িত্ব দেন। আমি সমাধানের চেষ্টা করছি কিন্তু চাষিরা বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন।