রংপুরের পীরগঞ্জে নারীর মাথাবিহীন লাশ, লাশের খন্ডিত মাথা পাওয়ার পর এবার নিহত মহিলার শিশু সন্তান সাইমার মৃতদেহ উদ্ধার করল পীরগঞ্জ থানা পুলিশ। আজ রবিবার সকালে বড় বদনাপাড়া গ্রামে ঘাতক আতিকুল ইসলামের বাড়ির পেছনের বাগানে পুতে রাখা শিশু সাইমার লাশ উদ্ধার করা হয়।
থানা-পুলিশের ভাষ্য, নিহত শিশুটির নাম সায়মা বেগম। মাস দেড়েক আগে তাকে হত্যা করা হয়। পরে বাড়ির পাশে গোবরের গর্তে শিশুটির লাশ পুতে রাখা হয়িছিল। মা-মেয়েকে খুনের ঘটনায় আতিকুল ইসলাম (৩৫) নামের এক ব্যক্তি জড়িত। গতকাল শনিবার তাঁকে আটক করা হয়।
নিহত দেলোয়ারা বেগম নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বাসিন্দা। তাঁর বিয়ে হয়েছিল গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে। পরে স্বামীর সঙ্গে তাঁর ছাড়াছাড়ি হয়। আতিকুল ইসলামের বাড়ি পীরগঞ্জের বড় বদনাপাড়া গ্রামে। দেলোয়ারা ও আতিকুল একত্রে গ্রামগঞ্জে গানবাজনা করে বেড়াতেন।
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ ফারুক বলেন, গত শুক্রবার মাথাহীন দেলোয়ারা বেগমের লাশ একটি মরিচখেত থেকে উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় আতিকুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া স্বীকারোক্তিতে গতকাল বেলা তিনটার দিকে উদ্ধার করা হয় দেলোয়ারার বিচ্ছিন্ন মাথাসহ ব্যাগ ও একটি বক্স। গতকাল রাতে থানায় জিজ্ঞাসাবাদে আতিকুল জানান, দেলোয়ারা বেগমের চার বছরের শিশুসন্তানকেও তিনি হত্যা করে মাস দেড়েক আগে মাটি খুঁড়ে লাশ পুতে রেখেছেন। আতিকুলকে সঙ্গে নিয়ে আজ সকালে শিশুটি লাশ উদ্ধারে মাঠে নামে পুলিশ।
ওসি এম এ ফারুক জানান, দেলোয়ারা বেগমকে হত্যার ঘটনায় পীরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক অনন্ত কুমার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে গত শুক্রবার রাতে থানায় মামলা করেন। আটক আতিকুলকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শিশুটির লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য আজ দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি এম এ ফারুক আরও জানান, মাস দেড়েক আগে ঠিক কী কারণে শিশু সায়মাকে এবং পরে শিশুর মা দেলোয়ারাকে হত্যা করা হয়েছে, সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। হত্যার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।