নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ছিনতাইয়ের অভিযোগ তদন্তে গিয়ে টহল পুলিশের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় এক কনস্টেবলের কাছ থেকে সরকারি শটগান ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। পরে কয়েক ঘণ্টার অভিযানে অস্ত্রটি উদ্ধার এবং তিন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, মদনগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার ডিউটিতে থাকা এএসআই সোহেল রানা ফোর্সসহ দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় সিফাত ওরফে টুটুল (২৮), শাহারিয়া তানভীর (২৯) ও আবু সুফিয়ান ওরফে চমক (২৯) নামের তিন ব্যক্তি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে এএসআই সোহেল রানা অভিযোগকারীদের সঙ্গে নিয়ে প্রাথমিক তদন্তে পুরান বন্দর চৌধুরীবাড়ি এলাকার হাবিব নগর রোডে গুলু মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া সোহানের টিনশেড ঘরে যান।
পুলিশ সেখানে পৌঁছালে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা ১৪ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দুর্বৃত্ত দল দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় কনস্টেবল ফয়সাল হোসেনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ডান হাতের দুটি আঙুল গুরুতরভাবে কেটে ফেলা হয় এবং পেটে নাভির নিচে গভীর জখম করা হয়। একই সময় হামলাকারীরা তার কাছে থাকা ইস্যুকৃত সরকারি শর্টগান ছিনিয়ে নেয়। এএসআই সোহেল রানার ডান পায়ের হাঁটুর নিচেও কুপিয়ে জখম করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে থানা ও ফাঁড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করেন। প্রথমে তাদের বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত কনস্টেবল ফয়সাল হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে শুক্রবার ভোর সকালে গুলু মিয়ার বাড়ির পেছনের সীমানা প্রাচীরসংলগ্ন একটি বেলগাছের নিচ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া শর্টগানটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে।
নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করা হয়। জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত আছে।