ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, নির্বাচনের মাঠে ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। নির্ধারিত সময় শেষে কেন্দ্র চত্বরে উপস্থিত ভোটারদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। ৩০০ আসনের মধ্যে শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত থাকছে। ফলে ২৯৯ আসনে একযোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
এবারের নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮৩ জন।
সারা দেশে মোট ৪২ হাজার ৬৫৯টি কেন্দ্রে সশরীরে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি ২৯৯টি কেন্দ্রে পোস্টাল ভোটের গণনা করা হবে। সব মিলিয়ে কেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৪২ হাজার ৯৫৮টি। ইন-পার্সন ভোটিংয়ের কেন্দ্রগুলোর প্রায় অর্ধেককে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইসি।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ছয় কোটি ৪৮ লাখ এবং নারী ভোটার ছয় কোটি ২৮ লাখ।
নির্বাচনের নিরাপত্তায় সারা দেশে প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন ২ হাজার ১০০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। গত কয়েক সপ্তাহে সারা দেশে ৮৫০টির বেশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান ইসি সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, এবার প্রথমবারের মতো নির্বাচনে ড্রোন (ইউএভি), বডি ওর্ন ক্যামেরা এবং ব্যাপকভাবে সিসিটিভি ব্যবহৃত হচ্ছে। ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছে।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে রয়েছেন ৪৫ হাজার ৩৩০ জন দেশীয় পর্যবেক্ষক এবং প্রায় ৩৫০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক। এছাড়া প্রায় ৯ হাজার ৭০০ জন সাংবাদিক নিবন্ধন করেছেন, যার মধ্যে বিদেশি সাংবাদিক রয়েছেন ১৫৬ জন।
ভোটার উপস্থিতি প্রসঙ্গে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, কমিশন কোনো পূর্বানুমান করতে চায় না, তবে মাঠপর্যায়ের ফিডব্যাক ইতিবাচক। “মানুষের মধ্যে ভোট দেওয়ার আগ্রহ ও উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। শুধু ট্রেনের ভিড় দেখলেই বোঝা যায়—অনেকে ভোট দিতে বাড়ি ফিরছেন,”— বলেন তিনি।
সবশেষে তিনি রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে উৎসবমুখরভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।