বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকালে স্তাদিও মনুমেন্তালে ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের ম্যাচে ভেনেজুয়েলাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে আর্জেন্টিনা। মেসির জোড়া গোলের সঙ্গে অপর গোলটি করেছেন লাউতারো মার্তিনেজ।
মেসির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলবেন কি না? উত্তর এসেছে, ‘দেখা যাক।’
দেশের মাটিতে নিজের শেষ অফিশিয়াল ম্যাচ খেলা প্রসঙ্গে কিংবদন্তি বলেছেন, ‘অনেক আবেগ কাজ করছে। মাঠে অনেক কিছুর ভেতর দিয়ে গিয়েছি। নিজের মানুষদের সামনে আর্জেন্টিনায় খেলাটা সব সময়ই আনন্দের। বছরের পর বছর আমরা ম্যাচগুলো এভাবেই উপভোগ করছি। এখানে এভাবে শেষ করতে পেরে ভালো লাগছে, যেটা স্বপ্ন দেখেছি সব সময়।’
মেসি এরপর বলেছেন, ‘অনেক বছর ধরে অনেক কিছুই বলা হয়েছে। কিন্তু আমি সব ভালো স্মৃতি নিয়েই থাকব। এই দলটা যা কিছু ভালো করার চেষ্টা করেছে, তার সবকিছুই..সুন্দর এক সময় পার করেছি আমরা। আজ ছিল পয়েন্টের জন্য (প্রতিযোগিতামূলক) শেষ ম্যাচ।
আজকের খেলার ৩৯ মিনিটে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের নিখুঁত পাস ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন জুলিয়ান আলভারেজ। নিজে শট না নিয়ে সতীর্থকে খুঁজে নেন তিনি। মেসি ঠাণ্ডা মাথায় চিপ শটে বল জালে জড়িয়ে দেন—স্টেডিয়াম মুহূর্তেই উৎসবে ফেটে পড়ে। সমর্থকেরা গান ধরেন, ‘লিও মেসি আছে পাশে, পুরো পথ আমরা পাড়ি দেব একসঙ্গে।’
দ্বিতীয়ার্ধে আবারও জ্বলে ওঠেন তিনি। দ্রুত ফ্রি-কিক থেকে শুরু হওয়া আক্রমণে নিকো গঞ্জালেসের ক্রসে লাওতারো মার্টিনেস হেডে গোল করেন। এরপর থিয়াগো আলমাদার সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় মেসি সহজ ট্যাপ-ইনে পূর্ণ করেন জোড়া গোল। চলতি বাছাইপর্বে এটি তার অষ্টম গোল, যা তাকে শীর্ষ গোলদাতা বানিয়েছে।
এ রাতটিকে বিশেষ করেছে কেবল গোল নয়, মেসির অশ্রুসিক্ত আবেগও। ওয়ার্ম-আপের সময় থেকেই চোখে পানি জমে উঠেছিল। খেলার পরও বারবার করতালিতে ভেসেছেন। ২০ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, ফাইনালিসিমা—সব জয় করেছেন তিনি। এবার দেশীয় মাটিতে বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচকে স্মৃতির অমর পাতায় তুলে রাখলেন নিজের জাদুতে।