আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, মানবাধিকার সংস্থাগুলো কোন খেলায় নেমেছে। তারা কার পক্ষে, কি চান আপনারা?
বিরোধী দলের মত প্রকাশে আওয়ামী লীগ সরকার অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করছে—মানবাধিকার সংস্থাগুলোর এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে হানিফ বলেন, আপনাদের বক্তব্যগুলো মনে হয় সন্ত্রাসী, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পক্ষে নির্লজ্জ দালালি ছাড়া আর কিছু নয়। জাতি আপনাদের এসব বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে।
গতকাল শনিবার (৫ আগস্ট) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।
হানিফ বলেন, বিএনপি কয়েক দিন আগে সমাবেশ করার পর ঢাকার প্রবেশমুখ অবরোধ ঘোষণা দিলো। তারা অবস্থান নিয়ে রাস্তা বন্ধ করে গাড়ি চলাচল বন্ধ করল। এ রকম কর্মসূচি কোন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আছে। আপনি রাস্তা বন্ধ করে দিলেন, এটা তো কোনো কর্মসূচি হতে পারে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করে দিয়েছে, তখন পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলা করে আহত করে দেওয়া হয়েছে। রাস্তায় গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে। আর সেটার জন্য আজ মানবাধিকার সংস্থা থেকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, সরকার অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করছে।
পশ্চিমা বিশ্বের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যে তারেক রহমানের বিপক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাম্বাসেডর জেমস মরিয়াটি ২০০৮ সালের ৩ নভেম্বর একটি রিপোর্ট পাঠিয়েছিলেন। সেই রিপোর্টে পরিষ্কারভাবে বলেছিলেন, তারেক রহমান অত্যন্ত ভয়ংকর, দুর্ধর্ষ, দুর্নীতি পরায়ণ সন্ত্রাসী এবং সহিংসতার প্রতীক। এটা আমাদের কথা নয়। এই কথা বলেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সেই সময়কার রাষ্ট্রদূত। আজ সেই ব্যক্তি এত ভালো হয়ে গেল যে, তাদের রাজনৈতিকভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যহত করে সরকার উৎখাত করার খেলায় মত্ত হতে হবে।
বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সিনিয়র এ নেতা বলেন, আমাদের দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট দেখলে আজ দুঃখ হয়। বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা অনেক সময় অনেক কথা বলছেন। সবচেয়ে অবাক হলাম বিএনপি নামক দলটি যেকোনো বিষয়ে কর্মসূচির করার পর দৌড়ে বিশেষ কোনো রাষ্ট্রদূতের অফিসে বা বাসায় যায় তাদের কাছে রিপোর্ট করার জন্য। এর মানে কী দাঁড়াল? বিএনপির এসব কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রদূতের পরামর্শে হচ্ছে?
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠপুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল সম্পর্কে হানিফ বলেন, শেখ কামাল ছিলেন তারুণ্যের অহংকার, আমাদের যুব সমাজের অহংকার। তিনি শুধু একজন ছাত্রনেতা নয়, লেখাপড়ার পাশাপাশি একজন দক্ষ ক্রীড়াবিদও ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই তার ছিল বহুমাত্রিক প্রতিভা। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, নম্র, ভদ্র ও সদালাপী। আমাদের দুর্ভাগ্য শেখ কামাল ২৬ বছর বয়সে ঘাতকদের নির্মম বুলেটের আঘাতে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন।