ফরিদপুরের নগরকান্দায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘর ৪৫ হাজার টাকায় বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অথচ একটি ঘর নির্মাণে সরকার বরাদ্দ দিয়েছে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা। পাশাপাশি ঘরের জন্য জমি তো বরাদ্দ আছেই। জমিসহ এত টাকা খরচে নির্মিত একটি ঘর মাত্র ৪৫ হাজার টাকায় বিক্রি করায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের মধ্যে চলছে নানা সমালোচনা। উপজেলার লস্কারদিয়া ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ঘরটি বিক্রি করেন বাঘুটিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের সুবিধাভোগী রিপন মোল্যা ও তার স্ত্রী বিথি বেগম দম্পতি। আর ঘরটি স্ট্যাম্পের মাধ্যমে কিনে নিয়ে বসবাস করছেন রাশেদ মোল্যা ও তার স্ত্রী রাশিদা বেগম দম্পতি।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাঘুটিয়া গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১০টি ঘর নির্মাণ করা হয়। ঘরগুলো ১০ জন সুবিধাভোগীদের মাঝে বিতরণ করেন সংশ্লিষ্টরা। সুবিধাভোগীদের বেশিরভাগ বসবাসকারী বাঘুটিয়া গ্রামের লোকজন। ১০টি ঘরের মধ্যে একটি ঘর টাকার বিনিময় বিক্রি করা হয়েছে।
এ ছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, এক সুবিধাভোগীর কাছ থেকে আরেকটি ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন একজন অন্ধব্যক্তি।
টাকা দিয়ে ঘর কিনে বসবাসের কথা স্বীকার করেন রাশিদা বেগম বলেন, ‘রিপনের কাছ থেকে ৪৫ হাজার টাকা দিয়ে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ঘরটি কিনেছি আমরা।’
ঘর বিক্রির বিষয়ে সুবিধাভোগী রিপনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে না পাওয়া যায়নি।
নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমাম রাজী টুলু বলেন, সরকার জমিসহ ঘরগুলো যাদের দিয়েছে, তাদের তা বিক্রি করার কোন অধিকার কাউকে দেয়নি। সরকারি ঘর বিক্রি করা অপরাধ। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা ইতিমধ্যে খোঁজখবর নিয়ে একটা তালিকা করার কাজ শুরু করেছি। যারা ঘরে বসবাস করছে না বা বিক্রি করছে, তাদের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে নতুন সুবিধাভোগীদের মাঝে ঘরগুলো হস্তান্তর করা হবে।