1. admin@newsupdate24-7.com : admin :
বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন

আসুন বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে আত্মার সৌন্দর্যকে বেশি মূল্য দিই : জসিম উদ্দীন মাহমুদ তালুকদার

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৪ মার্চ, ২০২৫
  • ৯৫৩ বার পঠিত

আসুন বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে আত্মার সৌন্দর্যকে বেশি মূল্য দিই : জসিম উদ্দীন মাহমুদ তালুকদার

মানুষের দাবী, তারা সৃষ্টির সেরা জীব। তাদের আচার-আচরণ শ্রেষ্ঠত্বের দাবীদার। তবে, শ্রেষ্ঠত্বের দাবী নিয়েও পৃথিবীতে তাদের ক্ষণিকের অবস্থান। যেন ভ্রমণ করতে আসা এখানে। আর এই ভ্রমণের পরিসমাপ্তি হয় মৃত্যু বা প্রস্থান দিয়ে। অথচ এই সহজ সরল সত্যকে আমরা সহজভাবে নিতে জানি না।

একটি এমন সমাজে, যেখানে নিখুঁত ত্বক এবং বাহ্যিক সৌন্দর্যের পেছনে সবাই ছুটছে, প্রকৃত সৌন্দর্যের আসল মানে হারিয়ে যাচ্ছে। হৃদয়ের কোমলতা, আত্মার মাধুর্য,কারও চোখের উষ্ণতা এগুলো কখনো ফিকে হয় না, কখনো বয়সের ছাপ পড়ে না, কখনো আকর্ষণ হারায় না। তবুও, আজকের সমাজ মানুষের মূল্য নির্ধারণ করে গায়ের রং, সম্পদ আর বাহ্যিক চাকচিক্যের উপর ভিত্তি করে, ভুলে যায় যে সময় কাউকেই ছাড় দেয় না।

একদিন যে উজ্জ্বল মুখ সৌন্দর্যে ভরা ছিল, তা কালের সাথে ম্লান হয়ে যাবে। কিন্তু একটি সুন্দর হৃদয়। এটি চিরকাল অমলিন থাকে। ভালোবাসা, সহানুভূতি আর মমতার সৌন্দর্য কখনো পুরোনো হয় না। এগুলো এমন সম্পদ, যা টাকা দিয়ে কেনা যায় না। কিন্তু আজ মানুষ সাময়িক সৌন্দর্যের পেছনে ছুটছে, সত্যিকারের ভালোবাসা ও মানবতার মূল্য দিচ্ছে না। তারা মুখের রূপে মুগ্ধ হয়, কিন্তু সেই হাসির আড়ালে লুকানো কষ্ট দেখতে পায় না। তারা ধন-সম্পদের কদর করে, কিন্তু একটি বিশুদ্ধ আত্মার মূল্যায়ন করে না।

কতবার আমরা দেখেছি, হৃদয়ের সৌন্দর্য যার মধ্যে আছে, সে অবহেলিত হচ্ছে, আর যাদের বাহ্যিক চাকচিক্য আছে, তারা প্রশংসিত হচ্ছে! আমরা কতবার কারও বাহ্যিক রূপ দেখে বিচার করেছি, বুঝতে পারিনি যে সত্যিকারের সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে তার ব্যবহারে, তার ভালোবাসায়, তার মানবিকতায়।

আমরা আজ হিংসা, অহঙ্কার আর স্বার্থ নিয়ে বেঁচে থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দবোধ করি। সত্যি বলতে আমাদের এখন ‘আমরা’ বিষয়টা নেই। আমরা প্রত্যেকেই আমিত্ব নিয়ে বেঁচে আছি। কেউ কষ্ট পাচ্ছেন, কেউ যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন, কেউ বা রাস্তায় পড়ে আছেন মুমূর্ষু অবস্থায়। কিন্তু এতে আমার আপনার কী? হ্যাঁ আমাদের এখন এই প্রবণতা কাজ করে। এটা সত্যি, একদম পবিত্র গ্রন্থের বাণীর মতো সত্য না হলেও আমাদের দু’চোখে দেখা বাস্তব দৃশ্য।

আমাদের ভেতর এখন না আছে মানবতা, না আছে মনুষ্যত্ব। আমরা বাইরে শুধু মানুষের রূপ নিয়ে চলছি। আমার কেন জানি মানবতা আর মনুষ্যত্ব শব্দগুলোর জন্য মায়া হয়। বোধহয় এই শব্দ দুটোও রোজ আফসোস করে। কারণ, এদের এখন সবাই অবহেলা করে। আমরা এখন নিজের জন্য এই শব্দ দুটোকে বাঁচিয়ে রাখি। অন্যের জন্য এই শব্দ দুটো আজীবন মৃত। এদের ব্যবহার শুধু অভিধানে, গল্পে ও করিতায়, মাঝে মাঝে সভা-সেমিনার ও রাজতৈকি মঞ্চে।

একদিন, যখন আয়না আর প্রশংসা করবে না, দামি প্রসাধনী যখন আর বলিরেখা ঢাকতে পারবে না, যখন টাকা হারিয়ে যাবে সময়ের সাথে, তখন মানুষ বুঝবে
সৌন্দর্য কখনো চেহারায় ছিল না, সৌন্দর্য সবসময় হৃদয়ের গভীরে ছিল। কিন্তু তখন কি সেই উপলব্ধি দেরিতে আসবে।

তাই আসুন, আমরা বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে আত্মার সৌন্দর্যকে বেশি মূল্য দিই, নিখুঁততার চেয়ে ভালোবাসা, মনুষ্যত্ব ও মানবতাকে বেছে নেই, বিলাসিতার চেয়ে মানবিকতাকে গুরুত্ব দিই। কারণ শেষ পর্যন্ত মানুষ মনে রাখবে না গায়ের রং, দামি পোশাক, কিংবা অর্থ-সম্পদ, বরং মনে রাখবে আমাদের ভালোবাসা, আমাদের সহানুভূতি, আমাদের ছোঁয়া যা অন্যের জীবন বদলে দিয়েছে।

লেখক পরিচিত: (লেখক ও সংবাদকর্মী)
সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য,বাংলাদেশ ন্যাপ।

এই পোস্টটি সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: FT It Hosting