1. admin@newsupdate24-7.com : admin :
বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন

কানিজ ফাতেমা তুরমনি ,— স্বাধীন না পরাধীন

তাসনোভা তুসিন
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৫ জুন, ২০২৫
  • ৪৮৩ বার পঠিত

কানিজ ফাতেমা তুরমনি
মোবা :01725910712
স্বাধীন না পরাধীন
একজন নারী হিসেবে জন্মগ্রহণ করা মনে হয় সত্যিই খুব বড় ভুল , ভাবছে দোলা কারণ বর্তমান যুগে এসেও নারীরা ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এখন 2025 সাল , বলা হয় বাংলাদেশ অনেক উন্নতিসাধান করেছে । আসলেই কী তাই ? এই দেশে এখনও মেয়েদেরকে ছোট চোখে দেখা হয় । এই দেশের মানুষেরা মেয়েদেরকে মানুষ মনে করে না ,তারা মনে করে মেয়েরা একধরনের জন্তু যাদের ছেলেদের মতো চারটি হাত _ পা আছে । মেয়েরা যেন পুরুষের ভোগের একটি বস্তু।আচ্ছা মেয়েদের ছাড়া কিভাবে একটি দেশের উন্নতি হতে পারে ? এটা কি করে সম্ভব ? বেগম রোকেয়া নারী পুরুষকে একটি গাড়ির দুইটি চাকার সাথে তুলনা করেছেন । গাড়ি যেমন একটি চাকা ছাড়া চলতে পারে না , তেমনি আবার নারীকে বাদ দিয়ে সমাজের উন্নতি সম্ভব নয় । নারী ও পুরুষের উভয়ের প্রচেষ্টাতেই গড়ে উঠেছে মানব সভ্যতা । যদিও নারীরা এখন পুরুষের পাশাপাশি চাকরি এবং পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছেন, তবুও তারা এখনও পুরোপুরি নিরাপদ নয় । এইসব কথা ভাবতে ভাবতে দোলা কোচিং সেন্টারে চলে গেল। কোচিং সেন্টারে টিচার আজকে Higher Math করেছেন । খুব মনোযোগ দিয়ে সবাই টিচার এর লেকচার শুনছে। কিছুক্ষণ পরেই কোচিং শেষ হয়ে গেল । দোলা আর শ্রাবণী একসাথে হাঁটছে আর গল্প করেছে ।
দোলা : আচ্ছা পুরুষের সাথে চাকরি আর পড়াশোনা করতে পারলেই কি মেয়েরা পূর্ণ স্বাধীনতার স্বাদ বা অধিকার পেয়ে যায় ?
শ্রাবণী : তা নয় তো কী ?
দোলা : আরে কর্মসংস্থানে যদি কোনো নিরাপত্তা না থাকে তাহলে কিভাবে তোর অধিকার রক্ষা পেল ?
শ্রাবণী: কি বলতে চাস তুই ? কর্মসংস্থান আমাদের জন্য নিরাপদ নয় ? আমাদের কি চাকরী করা উচিত না ?
দোলা : ঠিক তা না l আমি বলতে চাই যে কর্মসংস্থানে নিরাপত্তা আরো বাড়ানো উচিত l কেন, তোর মৌমিতার কথা মনে নেই ? কীভাবেই না মেরেছে মেয়েটাকে ! কি দোষ করেছিল সে আর তার পরিবার ? একজন ভালো চিকিৎসক হওয়াটাই কি ছিল তার দোষ ? শুধু কর্মসংস্থানে না , আত্মীয় এমনকি নিজের বাড়িতেও মেয়েরা নিরাপদ নয় । আছিয়া আট বছরের একটি শিশু কত কষ্ট পেয়েই না ওকে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছিল ? ভাবলেই গায়ে কাটা দেয় ।
শ্রাবণী: ঠিক বেচারাকে আল্লাহ জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন । কিছুদিন আগে শুনলাম বাবা নাকি তার মেয়েকে ধর্ষণ করেছে । কতটা জঘন্য কাজ এট ! কতটা নির্দয় হলে মানুষ এই কাজগুলো করতে পারে ? এখনতো নিজের বাবাকে বিশ্বাস করতে ভয় লাগে আমার ।
দোলা : ঠিক তাই । আছিয়াকে যেভাবে তিলে তিলে মারা হয়েছিল । ওর খুনিদেরকেও দ্বিগুণ কষ্ট দিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিত ছিল । তাহলে হয়তো বাংলাদেশে এরকম কাজ আর হতো না ।
শ্রাবণী : একদম খাটি কথা । এখন যেতে হবেরে না হলে পরে মা আবার চিন্তা করবেন ।
দোলা : আচ্ছা সাবধানে যাস।পৌঁছে ম্যাসেজ দিস ।
দুইজনেই চলে গেল । দোলা আবার ভাবছে , এই পৃথিবীতে যদি নারীই না থাকে তাহলে কীভাবে মানবকূল টিকে থাকবে ? অন্তত এই বিষয়টি চিন্তা করে নারীদেরকে একটু সম্মানতো করাই যায় । শুধু কি ধর্ষণের বিষয় । বাংলাদেশে নাকি মেয়েদেরকে আঠারো বছরের নিচে বিয়ে দেওয়া হলে সেটাকে বাল্যবিবাহ বলে । আর বাল্যবিবাহ নাকি আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। এটার কোন বাস্তব রূপ দেখা যায় কি ? হাজার হাজার মেয়েদেরকে পনেরো থেকে ষোলো বছরের মধ্যেই বিয়ের দিয়ে দেওয়া হয় । তাদের জন্য কি তখন আইনগুলো মৃত্যুবরণ করে নাকি । নকল জন্মনিবন্ধনের কার্ড ব্যবহার করা হয় এই বিয়েগুলোর জন্য । এছাড়াও নারী পাচারের মত ঘটনা ঘটছে অহরহ । এখন এক দল লোক বলে যে , মেয়েরা অশ্লীলভাবে চলাচল করে বলেই এত সমস্যা । যদি তাই হয় তাহলে মাদ্রাসায় পড়ুয়া মেয়েটি কেন ধর্ষণের শিকার হল ? ও নিশ্চয়ই অশ্লীলভাবে চলাচল করে না । আমার জানা মতে একজন মাদ্রাসার ছাত্রী খাস পর্দা করে থাকে । এই প্রশ্নের উত্তর কেউ কখন দিতে পারেনি আর পারবেও না । একটা সন্তান জন্ম দিতে একটা মেয়ের কতটা কষ্ট হয় এই কথাটা কেউ কি ভেবে দেখেছে ? এইভাবে চলতে থাকলে দিনের পর দিন কিভাবে একটি দেশ উন্নতিসাধান করতে পারে ? এটাতো একটা বর্বর দেশ হওয়ার কথা । যদি বাংলাদেশের আইন ব্যবস্থার সংশোধন করা না হয় তাহলে এই দেশের উন্নয়ন কেউ কখন করতে পারবে না ।
__o__

এই পোস্টটি সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: FT It Hosting