বিয়ের পর সুখের কমতি ছিল না ফরিদা বেগমের। স্বামী ও তিন সন্তানকে নিয়ে ভালোই কাটছিল তার সংসার জীবন। হঠাৎ এক ঝড়ে সব এলোমেলো হয়ে যায় তার। সেই ঝড়ে স্বামীকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। এরপর শুরু হয় নতুন সংগ্রাম। সংসার চালানোর পাশাপাশি খুব কষ্ট করে সন্তানদের বড় করেছেন ফরিদা। সেই সন্তানরা এখন ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন নিজের জীবন সংসার নিয়ে। ফরিদার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ছত্ররাজপুরে। গত তিন মাস ধরে তার আশ্রয় হয়েছে মহানন্দা প্রবীণ নিবাসে।
ফরিদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আগে ছোট ছেলের কাছে থাকতাম। ছেলের বউ আমাকে বাড়িতে রাখবে না, তাই আমার বিছানা-কাপড় সব কিছু ঘর থেকে বের করে দেয়। এরপর মেয়ের কাছে থাকতে শুরু করি। সেখানে এক বছরের মতো থাকি। কিন্তু মেয়ের সংসার, সেখানে ভালো ওষুধ পাচ্ছিলাম না। তাদের অনেক কষ্ট হচ্ছিল। জামাইয়ের বাড়িতে থাকতে লজ্জা লাগছিল। জামাইয়ের বাড়িতে আর কতো থাকব, আর কতো খাব। পরে বাধ্য হয়ে বৃদ্ধাশ্রমে চলে এসেছি। সন্তানদের খুব দেখার ইচ্ছে করে। প্রতিদিন তাদের কথা মনে পড়ে। যাদের কোলে পিঠে করে মানুষ করেছি তারা এখন আমাকে দেখার সুযোগ পায় না। এসব ভাবনা এলেই চোখ দিয়ে পানি বের হয়।
(সংগৃহিত )
আব্দুস সালাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।