সীমান্তের ওপারে বিক্ষোভের জের ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চারটি শুল্ক স্টেশন দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে দেশের প্রধান স্থলবন্দরগুলো দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম প্রায় স্বাভাবিক রয়েছে। এদিকে ৪টি শুল্ক স্টেশন দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া শুল্ক স্টেশনগুলো হচ্ছে, সিলেটের জকিগঞ্জ ও শেওলা এবং মৌলভীবাজারের চাতলাপুর ও বটুলি।
গত সোমবার (২ ডিসেম্বর) থেকে বন্ধ আছে জকিগঞ্জ ও শেওলা স্টেশনের কার্যক্রম। এরআগে ২৭ নভেম্বর থেকে চাতলাপুর এবং ২৮ নভেম্বর থেকে বটুলি স্থল শুল্ক স্টেশনে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে।
অন্য সূত্রে বলা হয় ,হিন্দু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে শেওলা শুল্ক স্টেশনের ওপারে ভারতের সুতারকান্দিতে গত রোববার একদল বিক্ষোভকারী ‘বাংলাদেশ চলো’ কর্মসূচি দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালান। তবে সেখানকার পুলিশ ও বিএসএফের বাধায় তারা ফিরে যান। এসময় ওই স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধের দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।
ভারতের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য বাংলাদেশে ঘোষিত ২২টি স্থলবন্দর আছে। যার ১৬টি কার্যকর। এর মধ্যে বর্তমানে ১১টি স্থলবন্দরের কার্যক্রম চলমান আছে। বাকি ৫টিতে বিভিন্ন সময় ধরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ আছে। এগুলোর কোনোটিতে শুধু আমদানি আবার কোনোটিতে শুধু রপ্তানি কার্যক্রম চলত। এর বাইরে প্রায় অর্ধশত শুল্ক স্টেশন রয়েছে। যেগুলোর মাধ্যমেও দুই দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চলে।
দেশের অন্যতম নয়টি স্থলবন্দরের কাস্টমস থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত বছরের চার মাসে ৯টি স্থলবন্দর দিয়ে ৭৭ কোটি ৪৩ লাখ ৩৭ হাজার মেট্রিক টন পণ্য আমদানি করা হয়েছে। এ বছর সেটি কমে ৫৯ কোটি ১১ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টনে পৌঁছেছে। চলতি বছরের আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ১৭৬ কোটি ৬৭ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন পণ্য রপ্তানি হয়েছে। গত বছর রপ্তানি পণ্যের পরিমাণ ছিল ২৮ কোটি ৯৩ লাখ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন।
নয়টি স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন দিয়ে চলতি বছরের আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৮ লাখ ৯২ হাজার ১১৭ জন যাতায়াত করেছেন। গত বছর একই সময়ে দুই দেশে যাতায়াতকারী মানুষের সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ১৩ হাজার ৯১৫। এই স্থলবন্দরগুলো হচ্ছে আখাউড়া, বাংলাবান্ধা, হিলি, বুড়িমারী, দর্শনা, বিলোনিয়া, নাকুগাঁও, বেনাপোল ও ভোমরা।